রাঙামাটির বরকল উপজেলায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৪৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। টাকার লোভে পড়ে নিজের আপন ভাতিজাই সহযোগীকে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ভাতিজা মো. সোহাগ (১৭) এবং তার সহযোগী মো. ওমর আলীকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ২১ জুন উপজেলার শুভলং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘরে নগদ অর্থ গচ্ছিত থাকার বিষয়টি ভাতিজা সোহাগ আগে থেকেই জানত। সেই টাকার লোভেই সে তার সহযোগীকে সাথে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আয়েশা বেগমকে হত্যা করে এবং ঘরে থাকা অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতও জব্দ করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইসলামপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় নির্মমভাবে খুন হন আয়েশা বেগম। ঘটনার সময় তার স্বামী রফিকুল ইসলাম ও সন্তানরা পারিবারিক প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে আয়েশা বেগমের মরদেহ দেখতে পান এবং ঘর থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবারই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।