৪৪ জলকপাট খোলা

২৪ ঘণ্টায় আরও বাড়বে তিস্তার পানি : ৪ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। 

দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৮টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। 

ফলে তিস্তা অববাহিকায় একটি বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উজান থেকে আসা ঘোলা কাদামাটির পানির সাথে নদীতে দেদারসে ভেসে আসছে গাছের ডালপালা, কাঠ ও কচুরিপানা।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। 

চলতি বর্ষা মৌসুমে এ নিয়ে গত দুই মাসের ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। রাতের মধ্যে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানা গেছে।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। 

এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের ধরলা নদীও সতর্কসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বর্ষা মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথম দফায় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে ২৮ জুন, ৭ জুলাই এবং ৯ জুলাই দফায় দফায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র (Source): পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), ডালিয়া ডিভিশন ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।