চট্টগ্রামে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ১৬টি উপজেলা ও মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ি এই ১৬টি উপজেলার মোট ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭১০ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে দুর্গত মানুষের মধ্যে ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে ৪৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নিখোঁজের ২ দিন পর ডোবা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
ফটিকছড়িতে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন