দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিজের চুল নিজেই কাটেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম।
সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক ওয়ালে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই ব্যতিক্রমী অভ্যাসের বিষয়টি সামনে আসে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ভবানীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।
জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে নাপিতের দোকানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সিরিয়াল না পাওয়ায় বাজার থেকে একটি কাঁচি ও চিরুনি কিনে নিজের চুল নিজেই কাটার সিদ্ধান্ত নেন মুজাহিদুল। শুরুতে বিষয়টি ছিল অনেকটা জেদ, রাগ ও প্রয়োজনের তাগিদে। তবে ধীরে ধীরে সেটিই তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়।
নিজের চুল নিজে কাটার বিষয়ে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের দিকে তাঁদের এলাকায় একজন নাপিত ছিলেন। তিনি খুব সুন্দর করে চুল কাটতেন। কিন্তু তাঁর দোকানে এত ভিড় হতো যে প্রায় সারাদিন অপেক্ষা করেও সিরিয়াল পাওয়া যেত না।
তখন তিনি হাফেজি মাদরাসায় পড়তেন। সপ্তাহে শুক্রবার ছিল একমাত্র ছুটির দিন। তাঁর ভাষায়, সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে একদিন ছুটি পাওয়া ছিল অনেক বড় বিষয়। এক শুক্রবার চুল কাটাতে গিয়ে প্রায় অর্ধবেলা অপেক্ষা করেও তিনি সিরিয়াল পাননি।
পরের সপ্তাহে আবার শুক্রবার নাপিতের দোকানে গিয়ে সিরিয়াল নেন। তাঁর আগে তখন আরও তিনজন ছিলেন। ক্ষুধা লাগায় তিনি ভাবলেন, তিনজনের চুল কাটতে যতক্ষণ সময় লাগবে, ততক্ষণে বাড়ি গিয়ে খেয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু বাড়ি থেকে ফিরে এসে দেখেন, তাঁর সিরিয়াল চলে গেছে।
পরে তিনি নাপিতকে অনেক অনুরোধ করেন, যেন ছুটির দিনে তাঁর চুলটা কেটে দেন। কিন্তু নাপিত কোনোভাবেই রাজি হননি। এতে তাঁর মনে জেদ চেপে যায়। তিনি তখন নাপিত কীভাবে কাঁচি ও চিরুনি ধরেন এবং কীভাবে চুল কাটেন, তা মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকেন।
এরপর সেদিনই বাজার থেকে একটি কাঁচি ও চিরুনি কিনে বাড়িতে গিয়ে আয়নার সামনে নিজের চুল কাটার চেষ্টা শুরু করেন। প্রথমদিকে অবশ্য ঠিকমতো কাটতে পারেননি।
এরপর তিনি ভাবলেন, ভালোভাবে শিখতে হলে আগে অন্য কারও চুলে চেষ্টা করা দরকার। মাদরাসার এক ছোট ভাইকে বুঝিয়ে বললেন, তিনি তার চুল সুন্দর করে কেটে দেবেন। কিন্তু প্রথমবারের সেই অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। চুল কাটার পর ছেলেটির অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে আয়নায় নিজের চেহারা দেখে সে কান্না শুরু করে দেয়।
পরে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে দোকান থেকে খাবার কিনে দেন এবং একটি ব্লেড কিনে তাকে ন্যাড়া করে দেন মুজাহিদুল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ধীরে ধীরে চুল কাটার কৌশল রপ্ত করতে শুরু করেন।
নাপিতের দোকানে দীর্ঘ অপেক্ষার বিরক্তি থেকে শুরু হওয়া একটি সিদ্ধান্ত যে ১৭ বছর ধরে চলা ব্যতিক্রমী অভ্যাসে পরিণত হবে, সেটিই এখন মুজাহিদুল ইসলামের জীবনের একটি আলাদা গল্প।