বান্দরবানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে কেএনএফের ৫৩ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। রুমা উপজেলার সেনাবাহিনীর জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কে. এম আরাফাত আমীন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সোমবার (৮ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন নারী। আটককৃতরা সবাই রুমা বেথেল পাড়া বাসিন্দা। সন্ধ্যার দিকে আটককৃতদের সদর থানায় নিয়ে আসা হলেও তাদের সবার নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদে খবর পেয়ে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। এ সময় রুমার বেথেল পাড়া থেকে ৩১ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়। এসময় সাতটি দেশি বন্দুক, ২০টি গুলি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, দুই জোড়া বুট জুতো, একটি ছুরি, কেএনএফের পোশাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, দিনব্যাপী যৌথবাহিনীর অভিযানে ৪৯ জন ও তার আগে আরও চার জনসহ মোট ৫৩ জন কেএনএফ সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার রাতে সদর উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে কেএনএফের প্রধান সমন্বয়ক চেওসিম বমকে আটক করে র্যাব। রোববার রাতে থানচি টিএন্ডটি পাড়া ও সদর উপজেলা রেইচা চেকপোস্ট এলাকা থেকে চালকসহ চারজনকে আটক করে যৌথবাহিনী।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে বান্দরবানের রুমায় উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স ভবনে হামলা চালিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে অস্ত্র ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে কেএনএফ। এ সময় তারা ব্যাংকের ম্যানেজার নেজাম উদ্দীনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় অপহৃত ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে র্যাব। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮টি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে রুমায় ৪টি ও থানচিতে ৪টি মামলা হয়েছে।