খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া ‘কালো মানিক’ এখন কোরবানির হাটে, সাথে ছাগল ফ্রি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৪৪ মণ ওজনের এক বিশাল কৃষ্ণবর্ণের ষাঁড়, যার নাম ‘কালো মানিক’। ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশালাকৃতির গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন কৃষক সোহাগ মৃধার বাড়িতে। তবে গরুটির শরীরি গঠনের চেয়েও বড় আকর্ষণ এর পেছনের অনন্য ইতিহাস- এটি একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া এলাকার কৃষক সোহাগ মৃধা জানান, গত বছর তিনি প্রায় ৭০ জন সঙ্গীসহ গরুটি নিয়ে ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার কাছে গিয়েছিলেন। নেত্রী অত্যন্ত খুশি হয়ে উপহারটি গ্রহণ করেন, তবে পরক্ষণেই স্নেহের নিদর্শন হিসেবে গরুটি সোহাগের ছোট ছেলের নামে উপহার হিসেবে ফিরিয়ে দেন। সেই থেকে ‘কালো মানিক’ সোহাগের পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

প্রায় ৭ বছর ধরে পরম মমতায় লালন-পালন করা এই গরুটির উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট। সোহাগ মৃধা এবার কোরবানির হাটে গরুটির দাম হাঁকছেন ২২ লাখ টাকা। চমকপ্রদ তথ্য হলো, যে ক্রেতা কালো মানিককে কিনবেন, তাকে উপহার হিসেবে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ জাতের খাসি দেওয়া হবে।

গরুটির পরিচর্যায় সোহাগের স্ত্রী সুলতানা বেগম এবং সন্তানরাও দিনরাত পরিশ্রম করেন। সুলতানা বেগম বলেন, ‘এটি আমার কাছে পালিত পশুর চেয়েও বেশি কিছু, একে সন্তানের মতো বড় করেছি। প্রতিদিন এর খাবারের পেছনেই ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা খরচ হয়।’ 

স্থানীয়রা জানান, কালো মানিকের গর্জন প্রায় দেড় কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। বিশালাকৃতির এই পশুকে সামলাতে কয়েকজনকে হিমশিম খেতে হয়।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, তারা শুরু থেকেই খামারি সোহাগ মৃধাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা এই গরুটি জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পশু। খামারিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গরুটি ঢাকার বড় কোনো হাটে তোলার জন্য, যাতে তিনি কাঙ্ক্ষিত মূল্য পেতে পারেন।