বরিশালের অন্যতম বৃহৎ কোরবানির গরু হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘বাদশা’ নামের বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়। নাম শুনতে সাধারণ হলেও সামনে দাঁড়ালে যে কাউকেই বিস্ময়ে থমকে যেতে হয়। রাজকীয় গঠন, বিশাল দেহ আর আকর্ষণীয় কালো বর্ণের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে গরুটি।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম পলাশ প্রায় ৯ বছর ধরে যত্নে লালন-পালন করছেন বাদশাকে। নিজের বাড়ির গাভির পেট থেকে জন্ম নেওয়া বাছুরটি ধীরে ধীরে এখন বিশাল দেহের অধিকারী গরুতে পরিণত হয়েছে বাদশা।
পলাশ জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, ভুসি, ভুট্টা ও কাঁচা ঘাস খাইয়েই বড় করা হয়েছে বাদশাকে। প্রতিদিন নিয়মিত গোসল, ওষুধ ও বাড়তি পরিচর্যার মাধ্যমে বিশেষ যত্নে লালন করা হয়েছে বাদশাকে। এমনকি বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে এটিকে আরাম দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি (প্রায় ৩৫ মণ)। এর উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ফুট। বিশাল আকৃতির কারণে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ বিস্ময় নিয়ে দেখছেন ‘বাদশা’কে।
বাদশার মালিক আরও জানান, এবারের কোরবানির ঈদে ঢাকার হাটে গরুটি তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর দাম হাঁকানো হয়েছে ২০ লাখ টাকা। তবে দীর্ঘ ৯ বছরের লালন-পালন, খাবার ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন খাতে ইতোমধ্যে ১৫ লক্ষাধিক টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। অতীতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় শখের বসেই গরুটি পালন অব্যাহত রেখেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, পলাশ দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে গরুটি পালন করছেন। করোনা মহামারি ও দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে ভালো দাম না পাওয়ায় তিনি গরুটি বিক্রি করেননি। আমাদের জানা মতে, বাদশা বৃহত্তর বরিশালের অন্যতম বড় গরু। শুধু এলাকায় নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে বাদশার ছবি ও ভিডিও। সুগঠিত দেহের কারণে এবার কোরবানির হাটে অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে গরুটি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মাহফুজ আলম জানান, উপজেলার কেদারপুর এলাকার খামারি কামরুল ইসলাম তার খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রায় ১৪শ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। খামারির নিবিড় পরিচর্যা, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বেড়ে ওঠা গরুটি জেলা বা বিভাগের সবচেয়ে বড় পশু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে খামারিরা বলছেন, এমন বড় গরু দীর্ঘদিন পালন করতে বিপুল ব্যয় বহন করতে হয়। তাই শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করা না গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন পালনকারী।
মাগুড়ায় ক্রেতার আকর্ষণ ‘লালু’, দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ
দড়ি ছাড়াই ঘুরে বেড়ায় যশোরের ‘নেইমার’
দেয়াল ভেঙে বের করতে হবে পঞ্চগড়ের ‘যুবরাজ’কে