বরিশালে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ২৭ জুন সন্ধ্যার পর সদর রোডের অগ্রণী হাউজিং অফিসে এ ঘটনা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ঘটনার শিকার আজিজ এ ঘটনার সিসি ক্যামেরার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। তার আগে বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেছেন।
ভিডিওতে দেখা গেছে, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক ঢুকে পড়েন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক যুবক আজিজকে মারধর করেন। একপর্যাযে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের সময়ে আজিজ ‘বাচ্চু-বাচ্চু’ বলে একজনকে ডাকাডাকি করেন। ডাক শুনে আরেক ব্যক্তি কক্ষের মধ্যে ঢুকলে লিটুর সঙ্গীরা ধাক্কাধাক্কি করে তাকে বের করে দেন। পরে চেক ও স্টাম্প হস্তান্তরের ছবি তোলা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের কাছে কাটপট্ট্রি সড়কের বাসিন্দা। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।
এ ঘটনার বিষয়ে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘লিটু এক সময় আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। তার বিনিযোগের বিপরীতে জমি নিয়ে বিক্রি করেছেন। প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা পাওনা নাই এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছে। তারপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেছে। জোর করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং সাদা দুটি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।’
তিনি জানান, ঘটনার পর পরই তিনি ব্যাংকে অভিযোগ দিয়ে রাখায় টাকা তুলে নিতে পারেনি। বৃহস্পতিবার নালিশি মামলাটি এফআইআরভুক্ত করতে আদালত কোতোয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আজিজ স্বীকার করেন, সিসি ক্যামেরার ভিডিও চিত্র শনিবার রাতে তিনিই প্রকাশ করেছেন।’
ঘটনার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত লিটু বলেন, ‘যারা গিয়েছিলেন তারা সকলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আজিজ সকলের টাকা আত্মাসাত করেছেন। পরিচালকরা সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।’
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ শনিবার রাতে থানায় গিয়ে আদালতে মামলা করার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আজ রোববার আদালতের আদেশের কাগজ থানায় পৌঁছাতে পারে।