ইলিশের অভাবে জেলে পল্লিতে হাহাকার

ভরা মৌসুমে ইলিশের দেখা নেই ভোলা, মেঘনা, তেতুলিয়া নদীতে। মাছের আকাল দেখা দেওয়ায় বাজারে ইলিশের দাম আকাশচুম্বী। এদিকে হাহাকার করছে জেলে পল্লিগুলো।

সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলা শিবপুর, ভোলার খাল মাছ ঘাট, তুলাতুলি, দৌলতখান উপজেলা মাঝির হাট, কাজির হাট, দৌলতখান মাছ ঘাট শূন্য। 

ভোলার খাল মাছ ঘাটের জেলে সবুজ বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও এখন এ নদীতে মাছ নাই। আমরা ধার দেনা করে মাছের আশায় নদীতে জাল পেলি। যে তেল খরচ করে নদীতে যাই, সেই তেলের পয়সাটা ও মাছ বেছে উঠাতে পারি না। আমাদের সাথে অনেকে এই দেনায় করে পরিশোধ করতে না পেরে এখন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কাজ করে। এমন চলতে থাকলে দাদন ও ঋণের কিস্তির চাপে আমরা ও এই মাছ ধরা বাদ দিয়ে যেতে হবে।

আরেক জেলে আরিফ বলেন, নদীতে ইলিশ পাওয়ার জন্য টানা বৃষ্টি, স্রোতসহ সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাচ্ছি না। নদীতে অন্যান্য মাছও কমে গেছে। 

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানাজায়, চলতে মৌসুমে জেলায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নদী ও সাগর মোহনায় পলি পড়ে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় ইলিশ মাছ নদীতে আসতে পারে না। ইলিশ মাছ মূলত বেশি পানির মাছ। মৎস্য বিভাগের আশা, নদীতে পানি বাড়লে সাথে সাথে নদীতে ইলিশ মাছের পরিমাণ ও বাড়বে। সাথে সাথে এবছরের লক্ষ্যমাত্রা ও পুরন হবে বলে আশাবাদী মৎস্য বিভাগ।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, ডিম দেওয়ার পরে যে জাটকাগুলো হয়ত তাদের গতিপথে কোথাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সমুদ্র যেতে হয়, সমুদ্র তারা যেতে পারেনি। গতিপথে বাধা ও প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্টির সমস্যার কারণেই নদীতে ইলিশ সংকট রয়েছে।