তিন দশকেও সংস্কার হয়নি মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল

বরিশালের ভোলায় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালটি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে বড়ো ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। টার্মিনালটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টার্মিনালের ভেতরের সড়কজুড়ে বড় বড় খানা-খন্দ। বৃষ্টি হলে সেসব গর্তে পানি ও কাদা জমে সৃষ্ট হয় দুর্ভোগ। নেই যাত্রী ছাউনি, পাবলিক টয়লেট কিংবা বাস শ্রমিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতরের সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পুরো টার্মিনাল কাদায় পরিণত হয়। কাদা ও পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীদের কাপড়চোপড় নষ্ট হচ্ছে। টার্মিনালের চারপাশের সীমানা প্রাচীরও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বেহাল দশায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সীমানা প্রাচীর ভেঙে যাওয়ায় রাতের বেলায় বাসের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ বিভিন্ন সময় বাসের যন্ত্রাংশ এবং তেল-মবিল চুরির ঘটনাও ঘটছে।

নারী যাত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, এই টার্মিনালে নারীদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা নেই। শিশুদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বড় সমস্যা হলো এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। এতে নারী যাত্রীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়।

ভোলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা জানান, বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পৌরসভাকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা এই বাস টার্মিনালটিকে সংস্কারে কোনো ভূমিকা গ্রহণ করেনি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি বেহাল দশায় পরিণত হয়।

ভোলা পৌরসভার পৌরপ্রশাসক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য একটি ডিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিপিটি মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে আছে। এ বছরের মধ্যে এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) অনুমোদন পেলে কার্যক্রম শুরু হবে।