বিষখালীর ভাঙনে ছোট হচ্ছে বামনার মানচিত্র

বরগুনার উপকূলীয় বামনা উপজেলায় খরস্রোতা বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে উপজেলার ভূখণ্ড। নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী বসতভিটা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বামনার সঙ্গে বরগুনা জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলার গাজীপুর, বামনা, চেচান, বেবাজিয়াখালী, কলাগাছিয়া, পশ্চিম সফিপুর, রুহিতা, অযোধ্যা, পোটকাখালী, উত্তর রামনা, দক্ষিণ রামনা, চলাভাঙ্গা ও দক্ষিণ কাকচিড়া গ্রামের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কোথাও গ্রামের এক-তৃতীয়াংশ, আবার কোথাও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড নদী গ্রাস করেছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীতীর ঘেঁষা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের মাটি ধসে নদীর দিকে সরে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

রামনা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. আব্দুল খালেক জমাদ্দার জানান, রামনা পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় স্থায়ী ভাঙনরোধে সিসি ব্লক দিয়ে নদীশাসনের দাবিতে এলাকাবাসী প্রতিবছর মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঝেমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে। এতে কয়েক মাস ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকাত আরা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় পুনরায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবারগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, দক্ষিণ রামনা এলাকায় বর্তমানে জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। বর্ষা ও বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।