জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের কথা ও কাজের মধ্যে ওই স্বৈরাচারী চিন্তা-চেতনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ যেকোনো ব্যক্তির যেকোনো বক্তব্যের সঙ্গে আপনাদের দ্বিমত থাকলে যুক্তি ও কথা দিয়েই তার জবাব দিন। কথার বিপরীতে কথা বলুন এবং বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করুন। কিন্তু কণ্ঠরোধ করার জন্য ছাত্রদল ও যুবদলকে লেলিয়ে দিলে মনে রাখবেন, যাদের লেলিয়ে দেবেন, তাদের কারও ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো হবে না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা ও মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ভাই একসময় নির্যাতিত ও নিপীড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় তাকে জেল খাটানো হয়েছে। সেই মানুষটি যখন বক্তব্য দিয়ে বলেন, পাটোয়ারী গংদের বিরুদ্ধে ছাত্রদলকে গর্জে উঠতে হবে; তখন তাকে বলতে চাই- ডিবি অফিসের জেলে থাকার সময় একই কায়দায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, যারা আন্দোলন করছে, কথা বলছে ও প্রতিবাদ করছে, তাদের দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট।
তিনি বলেন, আজকে ছাত্রলীগও নেই, আওয়ামী লীগও নেই। ওই ধরনের স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে কোনো দলই বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রশ্নে প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায় থেকে এক ধরনের ছাড় দেখতে পাচ্ছি। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে সমঝোতা এবং ভোট পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দেওয়া, জামিনের ব্যবস্থা করা এবং নিরাপদে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যারা খুনি, অপরাধী ও স্বৈরাচারের সহযোগী, স্বৈরাচার যদি পুনরায় মাথাচাড়া দেয়, তারা আপনাদের আশ্রয়ে বসে থাকবে না। তারা প্রত্যেকেই স্বৈরাচারের পক্ষে ফিরে যাবে। তাদের প্রশ্রয় দিলে আপনারাও নিস্তার পাবেন না।
বিএনপির উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ক্ষমতায় আছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছেন এসব ভেবে সবকিছু ভুলে যাবেন না। ১৭ বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা ভুলে যাবেন না। তারেক রহমানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা এবং বেগম খালেদা জিয়ার পরিস্থিতির কথা ভুলে যাবেন না। সবকিছু মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর কোনো জায়গা নেই। এই ডিসেম্বর তো দূরের কথা, পৃথিবীতে এমন কোনো ডিসেম্বর আর আসবে না, যে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরে আসবে। শেখ হাসিনাকে যদি কেউ ফিরিয়ে আনার চিন্তা করে, তাহলে জুলাইয়ের সহযোদ্ধারা এবং শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরাই যথেষ্ট।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগের দলগতভাবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দলগতভাবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশ কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে হাঁটতে পারবে না। জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওসমান হাদির সহযোদ্ধারা জুলাইয়ে দেখেছেন, যাদের আওয়ামী লীগ ও হাসিনা সরকার কোটি কোটি টাকার প্রলোভন দেখিয়েও পথ থেকে টলাতে পারেনি, আগামীতেও কেউ টাকা, অর্থ কিংবা ক্ষমতার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের আদর্শ থেকে টলাতে পারবে না। সভায় বরিশাল জেলা ও মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।