বরিশালের উজিরপুরে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। বাড়িসংলগ্ন মন্দিরের পাকা ফটকে ‘খান বাড়ি’ লেখা নামফলক সাঁটানো হয়েছে। উজিরপুরের সার্বজনিন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতি বরুণ মিত্র দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসনসহ থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও তিনি কোন প্রতিকার পাননি। প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করেও কোন কাজ না হওয়ায় রোববার (১১ অক্টোবর) উজিরপুর মডেল থানায় আবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এদিকে, সোমবার ওই ঘটনায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে তাতে। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ২০১৯ সালে বরুণ মিত্র মিত্র উজিরপুর সার্বজনিন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরসংলগ্ন ৪ শতক জমি কিনে সেখানে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের একাংশ ভাড়া দিয়ে অপর অংশ মন্দিরের ব্যবহারের জন্য দান করেন। প্রতি বছরের বার্ষিক কীর্তন উপলক্ষে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভবনের ওই অংশ ব্যবহার করে আসছে। বরুণ মিত্র জানান, ২০২৪ সালের শুরুতে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কারণে তিনি বরিশাল নগরীতে বসবাস শুরু করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নুরুজ্জামান খান দলবল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন। পরে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখলে নেন।
বরুণ মিত্র বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে উজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতি। মন্দিরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আগত ভক্তদের সুবিধার্থে ভবনের একটি অংশ ব্যবহারের জন্য তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ করেছিলেন। ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে নুরুজ্জামান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, উজিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু বলেন, বরুণ মিত্রের বাড়ি অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, বাড়ি ও মন্দিরের জমি দখলের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাড়িটি দখল হয়। জমি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় পুলিশের এখতিয়ার সীমিত। নতুন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে অভিযোগকারীকে পাওয়া যায়নি।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, বরুণ মিত্র অনেক আগেই বাড়ি দখলের অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে মতভেদ থাকায় দখলমুক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।