আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন ঘিরে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন দুই প্রার্থী তরুণ আইনজীবী নেতা ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক আ. ছত্তার খান। দুইজনের নেতৃত্বগুণ, জনসম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক কর্মকৌশল ইতোমধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট দুই নেতাও এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা হলেন- জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক বেগম সেলিমা রহমান এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যেও ব্যারিস্টার আসাদের তৎপরতা ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সম্পাদক এ তরুণ নেতা বাবুগঞ্জ-মুলাদী নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে আলোচনায় এসেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বরিশাল-৩ আসনে দীর্ঘদিন ধরে নতুন নেতৃত্বের প্রতীক্ষা চলছে। ব্যারিস্টার আসাদের মতো শিক্ষিত ও প্রগতিশীল তরুণরা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন। জনগণের প্রত্যাশা— তরুণ নেতৃত্বই উন্নয়ন ও গণমানুষের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, একই আসনে মুলাদী উপজেলার বিএনপির আরেক শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী আ. ছত্তার খানও সমানভাবে আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মুলাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারি ও বন্যার সময় তার ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর সাড়া ফেলেছিল।
স্থানীয়দের মতে, আ. ছত্তার খান দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়েও জনগণের পাশে থাকেন।
মুলাদীর এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, ছত্তার খান সংগঠনের ঐক্যের প্রতীক। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন— এ কারণেই জনগণ তাকে ভালোবাসে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
এক স্থানীয় তরুণ কর্মী জানান, ছত্তার খান শুধু রাজনীতিবিদ নন, তিনি আমাদের অভিভাবকসুলভ মানুষ। সবসময় দিকনির্দেশনা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আ. ছত্তার খান ও ব্যারিস্টার আসাদ— দুজনই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হবেন। একদিকে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, অন্যদিকে তরুণ নেতৃত্ব— এই দুই প্রজন্মের সংমিশ্রণ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন বার্তা আনতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, বরিশাল-৩ আসনে মনোনয়ন কেন্দ্রীক রাজনীতি এখন নতুন গতিপথে— যেখানে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের প্রতিযোগিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।