চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে একটি মাছ ধরার নৌযানে (ফিশিং ভেসেল) বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয় নাবিকের মধ্যে দুজন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন। নিহতরা হলেন নৌযানটির গ্রিজার (ইঞ্জিন বিভাগের কারিগরি কর্মী) মো. রুবেল (৩৩) ও নাবিক শাহ আলম (৩৮)।
দগ্ধদের মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হচ্ছিল। পথে রুবেল ও শাহ আলমের মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালীতে।
বুধবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে নিজ এলাকায় তাকে দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে মো. রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়। সকাল ১০টায় জানাজা শেষে সেখানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ নৌযানটির ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিমের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। প্রায় শতভাগ দগ্ধ তামিম বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টার দিকে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা ‘এফভি দেশ’ নামের ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ‘এফভি দেশ’-এর ক্যাডেট প্রকৌশলী আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার মো. রুবেল ও নাবিক শাহ আলম দগ্ধ হন। পাশাপাশি পাশে নোঙর করা ‘এফভি ডিসনি’ নৌযানের নাবিক নিজাম উদ্দিন, মো. রাসেল ও ছিদ্দিক আহমেদও আগুনে দগ্ধ হন।
দগ্ধ ছয়জনকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় প্রায় শতভাগ দগ্ধ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে পথে রুবেল ও শাহ আলম মারা যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. মোহাম্মদ এস. খালেদ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি তিন নাবিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।