অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব তিন পরিবার

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২১ এএম

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি পরিবারের ঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে সাতটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের কক্ষ, তিনটি গোয়ালঘর ও তিনটি রান্নাঘর পুড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে নূরুল হক নূরুর বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো- নূরুল হক নূরু এবং তার তিন ছেলে ইমদাদুল হক, শরিফুল হক ও সাজেদুল হকের পরিবার। তারা একই বাড়িতে বসবাস করেন এবং পৃথকভাবে ব্যবসা ও গবাদিপশু পালন করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে আগুন দেখতে পান বড় ছেলে ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন। তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তাপে একটি ফ্রিজের কম্প্রেসার ও ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত ইমদাদুল হক জানান, তার ঘরে থাকা ১৫ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, ২০ মণ চাল, ১৫ মণ গম, নগদ ৫ লাখ টাকা, একটি টেলিভিশন ও একটি ফ্রিজ পুড়ে গেছে। দ্বিতীয় ছেলে শরিফুল হকের ঘরে থাকা ২০ মণ চাল, ৫ মণ রসুন, ১০ মণ পাট, এক ভরি স্বর্ণ, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও একটি টেলিভিশন পুড়ে যায়। ছোট ছেলে সাজেদুল হকের ঘরে থাকা মহিষ বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ মণ চাল, ১০ মণ গম, ১০ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, একটি টেলিভিশন, কয়েকটি মোবাইল ফোনসহ ঘরের সব আসবাব পুড়ে গেছে।

বাঘা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ মিনহাজুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুনে ঘরবাড়ি ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাঘা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে অবগত আছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

MU
আরও পড়ুন