কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণপ্রবণ এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি (অলআউট) অভিযান জোরদার এবং রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব উঠে আসে। সভায় কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় টেকনাফ ও বাহারছড়াসহ পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ বাণিজ্য, মাদক পাচার ও মানবপাচারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এসব এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আলোচনায় বাহারছড়ার বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে একসময় গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী আস্তানার তুলনা করা হয়। এ কারণে সলিমপুরে পরিচালিত অভিযানের আদলে সমন্বিত বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংঘটিত অপহরণ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যেই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভার হয়েছে। খুব শিগগিরই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাহারছড়াসহ অপহরণপ্রবণ এলাকায় অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সহজে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর সুযোগ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।