ঠাকুরগাঁও জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮ নেতার নামে ইস্যুকৃত মোট ৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ জুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে বলা হয়, The Arms Act, 1878-এর ১৮(এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটির গত ১১ জুন অনুষ্ঠিত সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫’-এর ১৯(চ) ধারা অনুযায়ী জননিরাপত্তার স্বার্থে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সের আওতাধীন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও -১ আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত রমেশ চন্দ্র সেন, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫০ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর, রিভলবার- ৪০১৫৪। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দবিরুল ইসলাম, যার লাইসেন্স নম্বর ২৫৫ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর একনলা বন্দুক-২৫২০। তার বড় ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দী মাজহারুল ইসলাম সুজন, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫৯ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি পিস্তল- ৬৩৬৮-১৫। দবিরুল ইসলামের ছোট ভাই ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামের ২টি অস্ত্র , যার লাইসেন্স নম্বর ২৫১ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর একনলা ৮৪৩৯৭-জি এবং ১৫৮, এনপিবি পিস্তল ০৬৩১৫৬। দবিরুল ইসলামের ভাতিজা যুবদল নেতা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল যার লাইসেন্স নম্বর ১৬৫ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি পিস্তল বি-০৭৭২৮৩।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো, যার লাইসেন্স নম্বর ১৬২ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর এনপিবি, টিও৬২০-১৮, টিএফ ০০১৫২ এবং কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ.কে.এম শামীম ফেরদৌস টগর, যার লাইসেন্স নম্বর ১৫৪ আর অস্ত্রের ধরন নম্বর ১২ শটগান ৩১৪০৯৬।
জেলা প্রশাসনের আদেশে প্রত্যেক লাইসেন্সধারীর অস্ত্রের লাইসেন্স নম্বর, অস্ত্রের ধরন ও সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ করে জানানো হয়েছে। লাইসেন্স বাতিলের ফলে সংশ্লিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা, যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত থাকবে। এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।
কুবিতে জুলাইযোদ্ধাদের স্মরণে ছাত্রশক্তির মোমবাতি প্রজ্বালন
চুয়াডাঙ্গা আলমসাধু ও ভ্যানের সংঘর্ষে চালক নিহত
নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পতাকায় কালেমা যুক্ত করায় গ্রেপ্তার ২