টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা সদরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার পাহাড়ি এলাকায় বেড়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভারী বৃষ্টির কারণে মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকার সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। এতে এসব এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
স্থানীয়রা জানান, সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারেনি। ফলে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে সড়ক তলিয়ে যায়। এতে ওই সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে টানা বর্ষণের প্রভাবে জেলা সদরের মুসলিম পাড়ার নিচু এলাকা, উত্তর গঞ্জপাড়া, মেহেদী বাগের একাংশ, মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজার এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, বর্তমানে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।