টানা বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট স্থল নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোর কোথাও কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে জলাবদ্ধতায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখো গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে- আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়াসহ নগরীর সিংহভাগ নিচু এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরীর অফিসগামী মানুষ, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় স্মরণকালের অন্যতম ভারী বর্ষণ রেকর্ড করা হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, আমবাগান আবহাওয়া অফিস এই একই সময়ে ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই থেকে তিনদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সড়কগুলোতে কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক এলাকায় সড়কে পানি থৈ থৈ করায় গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট দেখা দেয়। ফলে অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষকে জুতো হাতে নিয়ে, কাপড় গুটিয়ে নোংরা পানির মধ্য দিয়েই হেঁটে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর প্রধান প্রধান মোড়গুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত বছরগুলোতে হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই কেন বারবার এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নগরবাসী। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি না থাকায় এবং প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো সমাধান করতে পারছে না। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নগরীর নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

SN
আরও পড়ুন