রাঙামাটির বন্যা পরিস্থিতি

বন্যাদুর্গতদের দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামের

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি এবং সরকার প্রধান কর্তৃক বন্যাকবলিত পার্বত্যাঞ্চলের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাঙামাটির পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং খুব শিগগিরই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, বিধ্বস্ত সড়ক-সেতু ও অন্যান্য জনসাধারণের অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে আশ্রিত মানুষের খোঁজখবর নেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজন নিয়মিত খাবার পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি পুষ্টিকর ও বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সক্রিয় রাখা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি উপজেলার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কোথায় কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের ফাঁকা বাড়িঘরে চুরি, লুটপাট বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম), সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।