৫১ লাখ টাকা জালিয়াতি, ৩ কর্মচারী বরখাস্ত

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের ২৬টি সরকারি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অতনু বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া উপজেলা পরিষদের তিন কর্মচারী সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নুর ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে গ্রেপ্তারের দিন থেকেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে খোরপোশ ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এর আগে, উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের ২৬টি সরকারি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৭ জুলাই ওই তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল হালিম চৌধুরী বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় মামলা করেন। তবে বিষয়টি পুলিশের তদন্তের আওতাভুক্ত নয় উল্লেখ করে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরে গত রোববার (১২ জুলাই) ফুলগাজী আমলী আদালত থেকে তিন অভিযুক্ত জামিন পান। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় মামলার নথি দুদকে পাঠানো প্রয়োজন, যাতে কমিশন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারে।