ধান-চালভর্তি ট্রাকগুলোকে ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত গুদামের সামনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে করে ট্রাকের ভাড়ার সঙ্গে অবস্থান ফি বাবদ বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে চালকল মালিকদের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাদ্যগুদামগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে ধীরগতিতে চলছে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে খাদ্যগুদামগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। যদিও খাদ্য বিভাগের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ধান-চাল সংগ্রহ সম্পন্ন হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করে থাকে৷ চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ২০৮ টন ধান, ৪৯ টাকা কেজিতে ৭১ হাজর ৪২৫ টন সিদ্ধ চাল এবং ৪৮ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৯৯৩ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জেলা খাদ্য বিভাগ। গত ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে আগামী ৩১ আগস্ট।
তবে শুরু থেকেই জেলার খাদ্যগুদামগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে ধীরগতি দেখা দেয় সংগ্রহ অভিযানে। খাদ্যগুদামগুলোর স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫০০ টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে ৩০ হাজার ৮৫৯ টন খাদ্যশস্য। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারসহ আশপাশের জেলার গুদামগুলোতেও জায়গা সংকট রয়েছে। এর ফলে সেখানেও খাদ্যশস্য পাঠানো যাচ্ছে না। এতে করে গুদামে জায়গা না থাকায় ধান-চাল সংগ্রহ চলছে ধীরগতিতে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত জেলায় ধান সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৩ টন, সিদ্ধ চাল ৪৭ হাজার ৫২৫ টন এবং আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ১৪৮ টন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কানিজ জাহান বিন্দু বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গুদাম থেকে খাদ্যশস্য পাঠানো যাচ্ছে না৷ এর ফলে সপ্তাহখানেক ধরে সংগ্রহ অভিযান কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে ইতোমধ্যে ৬৮ শতাংশ ধান ও চাল সংগ্রহ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ধান ও চাল সংগ্রহ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।