ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, আয় কমছে চালকদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকট ও নিম্নচাপের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ায় একদিকে যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে ট্রিপ কমে যাওয়ায় প্রতিদিনের আয়ও কমে যাচ্ছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এসব স্টেশনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম। এর সঙ্গে গ্যাসের চাপও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাভাবিকভাবে যানবাহনে দ্রুত ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের জন্য ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ সময় ফিলিং স্টেশনগুলো মাত্র ২ থেকে ৪ পিএসআই, কখনো কখনো শূন্য থেকে ২ পিএসআই চাপের গ্যাস পাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে যানবাহনে গ্যাস ভরা সম্ভব হচ্ছে না। চাপ একেবারে নেমে গেলে দিনের মধ্যেই কয়েক দফা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এ কারণে প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ যানজটের মতো সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

চালকদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ভোররাত থেকেই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। দিনের বড় একটি অংশ গ্যাসের অপেক্ষায় কেটে যাওয়ায় আগের মতো চার-পাঁচটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এখন কোনো রকমে দুইটি ট্রিপ দিতে পারলেই ভাগ্য ভালো। এতে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সরাইল উপজেলার ফাহাদ ফিলিং স্টেশনের প্রকৌশলী মারুফ বলেন, ‘গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় আমরা ঠিকমতো সরবরাহ দিতে পারছি না। কখনো কখনো শূন্য থেকে ২ পিএসআই চাপ পাওয়া যায়। এত কম চাপে কোনো যানবাহনই প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারে না। ফলে স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।’

এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) মো. শফিকুল হক বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। মূলত এলএনজি সরবরাহে সংকট থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।’

এদিকে চালকদের দাবি, দ্রুত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করা না হলে শুধু তাদের আয়ই কমবে না, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।