আরো ১০ দিন বাড়ল কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে চলতি মৌসুমে প্রচলিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে অতিরিক্ত ১৬ দিন যুক্ত হলো।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কাপ্তাই লেকের মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণের অনুমতি প্রদান সংক্রান্ত সভা’য় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

সভায় রাঙামাটি মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক হায়দার, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপক (কমান্ডার) মো. ফয়েজ আল করিম (এনডি, বিএন), জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, পানিস্বল্পতা ও কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় গত ২৪ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তবে মাছের প্রজনন, হ্রদে অবমুক্ত পোনা মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১১ আগস্ট সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ অবতরণ (ল্যান্ডিং) কার্যক্রম শুরু হবে।

বিএফডিসির ব্যবস্থাপক (কমান্ডার) মো. ফয়েজ আল করিম জানান, ১০ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে কাপ্তাই হ্রদ মাছ আহরণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পরদিন সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ অবতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। হ্রদ চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইকোবোট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে চলছে।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই হ্রদে প্রতি বছর সাধারণত ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। এ সময়কে কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে হ্রদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৬ হাজার জেলে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা, অবমুক্ত পোনা মাছের বৃদ্ধি এবং কাপ্তাই হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিবছর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এবার পানিস্বল্পতা ও প্রজনন মৌসুমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।