ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় সাপের কামড়ে নুরুদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে আরো দুই নারী ও এক পুরুষসহ আরও তিনজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী।
এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আমখার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুদ্দিন একই গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে নুরুদ্দিনের বাবা সোহেল মিয়া জানান, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে মাছ ধরতে গেলে একটি সাপ নুরুদ্দিনকে কামড় দেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার দাদা-দাদি তাকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।
এছাড়াও সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের শান্তা (২৩), নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার সানোয়ারা বেগম (৪২) এবং সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের পুথাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৩৫)।
হাসপাতালে ভর্তি শান্তার মা নয়নতারা জানান, রোববার ভোর ৪টার দিকে টিনশেড ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শান্তাকে সাপে কামড় দেয়। ভোর ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তিনি বাড়িতে ফিরে যান। তবে দুপুরের দিকে ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে আবার হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।
এদিকে সানোয়ারা বেগমের বোন রুজিনা জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির জমি থেকে লাকড়ি আনতে গেলে অসাবধানতাবশত সানোয়ারার পা একটি সাপের ওপর পড়ে। এ সময় সাপটি তাকে কামড় দেয়। পরে প্রথমে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নেওয়া হলেও রাত ৮টার দিকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে জানান স্বজনরা।
অন্যদিকে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের পুথাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম নিজ ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে আহত হন। পরে রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘হাসপাতালে সাপের কামড়ে আক্রান্ত তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে এবং রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এ সময়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, ‘সাপে কামড় দিলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। কোনোভাবেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ রয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে রোগীর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।’
তিনি সাপে কামড়ের ঘটনায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।