ভাইরাল ভিডিওতে কী দেখা গেছে?

বরখাস্ত হলেন জেলে ট্রলার থেকে চাঁদা নেওয়া দুই নৌ-পুলিশ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফাঁড়ির ইনচার্জের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। 

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৬ জুলাই খবর সংযোগ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘জেলের ছদ্মবেশে থাকা সাংবাদিকের থেকে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে চরদুয়ানী নৌপুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, অনুসন্ধানে সংগ্রহ করা ভিডিওচিত্র, কথোপকথন এবং তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নৌপুলিশ সদর দপ্তরের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কবির আহমেদ ও কনস্টেবল আসাদুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে অনুসন্ধানের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ফাঁড়ির ভেতরে জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাছ থেকে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা সংলগ্ন বিষখালী-বলেশ্বর নদীর ভাড়ানী খাল দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাতায়াত করেন। জেলেদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি ট্রলার থেকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হতো। অভিযোগ থাকলেও এতদিন সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বরিশাল নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অভিযুক্ত দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। ফাঁড়ির ইনচার্জও দায় এড়াতে পারেন না। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো বাহিনী ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নেয় না।’

অনুসন্ধানের সময় অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে চরদুয়ানী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সময় তার উপস্থিতিতেই অভিযুক্ত কনস্টেবল আসাদুল সাংবাদিকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় জেলেরা বলেন, দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও শুধু বরখাস্তে দায় শেষ হবে না। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

MCH
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত