সচিব সংকটে স্থবির সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদ, সেবা ব্যহত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১০ নম্বর সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদে সচিবের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিভিন্ন ধরনের প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন এবং প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সনদসহ জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) শওকত হোসেনকে হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে পাশের পাইন্দং ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিনকে সপ্তাহে দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পর্যন্ত তিনি সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করতে যাননি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সচিবের কক্ষে তালা ঝুলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসা অনেক মানুষ কাজ না করেই ফিরে যাচ্ছেন। কেউ জন্ম নিবন্ধনের জন্য, কেউ মৃত্যু সনদের জন্য, আবার কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বিমল দাশ বলেন, তার মেয়ের কলেজে ভর্তির জন্য জরুরি একটি প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও সচিব না থাকায় কাজ করতে পারেননি।

প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া স্থানীয় যুবক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের একটি সনদ প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে পরিষদে এলেও সচিব না থাকায় তিনি সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে সময়মতো কাগজপত্র জমা দিতে না পারার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদেশে মারা যাওয়া এক যুবকের বাবা জাগির হোসেন বলেন, তার ছেলের মৃত্যু সনদ প্রয়োজন। ওই সনদের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা কিছু ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সনদ না পাওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েছেন।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, রেজিস্ট্রেশনের সময় শেষ হয়ে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি উদ্বিগ্ন।

ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মো. শাহাদাত হাসান মারুফ বলেন, সচিব না থাকায় প্রায় সব ধরনের প্রশাসনিক সেবা বন্ধ রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও এখনো দায়িত্ব পালন করতে আসেননি। এতে প্রবাসী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে সুন্দরপুর ইউনিয়নে একজন স্থায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদায়নের অনুরোধ জানিয়েছেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

আবেদনটি জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সপ্তাহে দুই দিন সুন্দরপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ইউএনও ২৬ জুলাই জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখায় পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, সুন্দরপুর ইউনিয়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ বর্তমানে শূন্য। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্যের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত একজন পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদায়ন জরুরি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক গোলাম মাঈনুদ্দিন হাসান বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আপাতত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে এ বিষয়ে কোনো আবেদন এখনো তার দপ্তরে পৌঁছেনি। আবেদন পেলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।