কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালীতে বদলে যাচ্ছে বনভূমির চিত্র। একসময় ন্যাড়া হয়ে যাওয়া পাহাড়ে ফিরেছে সবুজের সমারোহ। নতুন করে মাথা তুলেছে নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি। একই সঙ্গে বনে দেখা মিলছে এশিয়ান হাতি, বানর, শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর।
ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গর্জন, সেগুন, তেলসুর, ঢাকিজামসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বৃক্ষের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন সৃজিত বাগান। নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে প্রতিনিয়ত প্রাণবন্ত থাকে বনাঞ্চলটি। পাশাপাশি বুনোহাতিও কখনো একা, আবার কখনো দলবেঁধে বনের ভেতর বিচরণ করছে।
তবে অভয়ারণ্যের আশপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন মানববসতির কারণে বনজ সম্পদের ওপর স্থানীয় মানুষের নির্ভরতা রয়েছে। অনেকেই জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে বন থেকে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ আহরণ করেন। এতে বন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
ফাঁসিয়াখালী বিট অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিটের আওতাধীন রিজার্ভ বনভূমির পরিমাণ দুই হাজার ৯০৭ একর। এর মধ্যে প্রায় ২০ একর বনভূমি বিভিন্ন সময়ে জবরদখলে চলে গেছে। এই বনাঞ্চল দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন বনকর্মী। ফলে জনবল সংকটের মধ্যেই বন রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, ফাঁসিয়াখালী উত্তর বন বিভাগের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং বিট। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বনভূমি দখল, কাঠ পাচার, বালু উত্তোলনসহ নানা ধরনের বন অপরাধের অভিযোগ ছিল। তবে বিট কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার খসরুল আমিন দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। কমেছে জবরদখল, কাঠ পাচার, বালু উত্তোলনসহ বনের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার। গত দুই বছরে ফাঁসিয়াখালী বিটে ৫০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সরানো হয়েছে করাতকল (স’মিল)। পাশাপাশি ১০টি বালুমহালে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিট কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার খসরুল আমিন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর বনভূমি রক্ষা ও বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে চার থেকে পাঁচবার হামলার শিকার হয়েছেন। মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. কামরুল হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে বন বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ফাঁসিয়াখালীতে ৩০ হেক্টর বাগানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বনভূমি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য বজায় রাখাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।