নাফ নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুর মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ দুই শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় চার ঘণ্টা পর স্থানীয় জেলে, বাসিন্দা ও কোস্টগার্ডের তল্লাশিতে তাদের উদ্ধার করা হয়। একজনকে ঘটনাস্থল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অপরজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুরা হলো শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

স্থানীয়রা জানান, সকালে নিশান ও আরজিন জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যায় তারা। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন।

খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় কোস্টগার্ড। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নদীর বিভিন্ন অংশে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হয়।

পরে দুপুর ২টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর অংশ থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ আহমেদ বলেন, সকালে নদীতে গোসল করতে গিয়ে দুই শিশু নিখোঁজ হয়। এরপর স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা তাদের উদ্ধারে তল্লাশি শুরু করেন। পরে দুজনকেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তারা আর বেঁচে ছিল না।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান বলেন, নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত পানি পান করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে নাফ নদীতে দুই শিশু নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় এবং নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক নিশানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।