২৬ মাস পর কবর থেকে বাবা-ছেলের মরদেহ উত্তোলন

গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ দাফনের ২৬ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।  বুধবার (৭ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের খান বাড়ির কবরস্থান থেকে প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ এবং পরে তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহ তোলা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক আবেদন অনুমোদন করার পর বুধবার মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূর আল দীন বলেন, মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে অনেক সময় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। দীর্ঘ সময় পর শরীরে মাংসপেশি না থাকলেও অন্যান্য আলামত ও বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় একটি গাড়িতে ছিলেন সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খান। তারা চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের চাপিলা গ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতার বাধার মুখে পড়েন। সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেও পরে পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে যায়। সেখানে গণপিটুনিতে সেলিম খান ও শান্ত খান নিহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই সময়ের পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে লক্ষ্মীপুর গ্রামের খান বাড়িতে তাদের দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত মরদেহ দুটি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

সেলিম খান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির বাইরে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার ছেলে শান্ত খান একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সেলিম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ছিল। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের কারণে তিনি ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে একাধিক মামলা এবং কারাবাসের ইতিহাসও রয়েছে।