সোমবার বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের গণঅনশন

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সবচেয়ে লাভজনক জেটি এনসিটি ইজারা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ায় সোমবার (১২ অক্টোবর) গণঅনশন করবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।  বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে বেলা ১১টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ গণঅনশন হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন  চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবীর।

হুমায়ুন কবীর বলেন, গত ৮ অক্টোবর চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই আমরা বিক্ষোভ মিছিল থেকে সরকারকে দুই দিনের সময় দিয়েছিলাম আলোচনার জন্য। আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই আমরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ গণঅনশন করব এবং পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
 
সূত্র জানায়, গত ৮ অক্টোবর বিকেলে আগারগাঁওয়ের ইনভেস্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনার জন্য কনসেশন চুক্তি সই হয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এইচ ই ইসা কারিম এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান চুক্তিতে সই করেন।

বন্দর পরিচালনার আন্তর্জাতিক পদ্ধতি ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’-এ এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রাথমিকভাবে ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করবে। তবে টার্মিনালের জমি, মূল অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত এসবের মালিক থাকবে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি সইয়ের সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা এককালীন অর্থ দিতে হবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন, প্রযুক্তি সংযোজন ও পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এনসিটিকে আধুনিক করতে প্রথম ১০ বছরে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনালের আয় বা রয়্যালটির একটি অংশও পাবে। গড় টার্মিনাল আয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি কনটেইনারের জন্য এই অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্দিষ্ট ফি দেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। চুক্তিতে বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ’স (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) কনটেইনার পরিচালনার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে এই ন্যূনতম পরিমাণ ১০ লাখ টিইইউসে নামিয়ে আনার সুযোগ থাকবে।

২০২৩ সালের ২৩ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর লেনদেন কাঠামোসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৫ জানুয়ারি দরপত্র জমা পড়ে। এরপর ২৭ জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত আলোচনা চলে। ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড এ ব্যবস্থা অনুমোদন করে। পরে ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও অনুমোদন দেয়। এ চুক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের পঞ্চম কনটেইনার টার্মিনাল লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের উন্নয়নকাজের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হবে। ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস টার্মিনালটি নির্মাণ করছে। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।