ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নতুন ও পুরোনো মসজিদে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে নতুন মসজিদের পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় অবস্থিত নতুন মসজিদ এবং পূর্বপাড়ার পুরোনো মসজিদে নামাজ আদায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার উভয় পক্ষ নিজ নিজ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে। নামাজের পর নতুন মসজিদের পক্ষের লোকজন পুরোনো মসজিদটি ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে এ বিরোধের জেরে পুরোনো মসজিদের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য খন্দকার বিল্লাল আহমেদ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, মুসলমান হয়েও অমুসলিমের মতো আচরণ করা হয়েছে। মসজিদ ভাঙা মানে আল্লাহর ঘর ভাঙা—এটি মেনে নেওয়া যায় না।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে। তবে মসজিদ ভাঙার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মসজিদ ভেঙে ফেলার কাজটি ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।