জমির বিরোধে দাদাকে হত্যা, পা কেটে রাখা হয় ট্রাভেল ব্যাগে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়া (৬০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজার ছেলে রায়হান কবীর ওরফে রাব্বীকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা আড়াল করতে তাঁর মরদেহের দুই পা বিচ্ছিন্ন করে একটি সবুজ ট্রাভেল ব্যাগে রাখা হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা। তিনি উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বেও রয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। গ্রেপ্তার রায়হান কবীর রাব্বী একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে। নিহত বাচ্চু মিয়া সম্পর্কে তিনি দাদা হন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২০ অক্টোবর রাত ২টার মধ্যে কোনো এক সময় বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আব্দুল মোতালেব মিয়া বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করে উলিপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রাব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে আহসান হাবিবের বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পুকুর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকায় ভাতিজার বাড়ির একটি শয়নকক্ষ থেকে মঙ্গলবার ভোরে মোকছেদ আলী ওরফে বাচ্চু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত বাচ্চু মিয়া রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার নব্দীগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। তার বাবার নাম মৃত সজর উদ্দিন সরকার। রংপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে তিনি ভাতিজা মিঠু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময়ই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত