৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি, তদন্তে পদ্মার টিম

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তদন্তে আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে পদ্মা অয়েল পিএলসির তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করেছে।

তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম, ব্যবস্থাপক পেয়ার আহাম্মদ এবং প্রকৌশলী কে এম আবদুর রহিম। তারা ডিপোর সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই, তেল পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ (বুধবার) গোদনাইল ডিপো থেকে চারটি তেলবাহী গাড়ি (গাড়ি নম্বর: ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ ও ৪১-০৬৯৮) কুর্মিটোলা ডিপোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, কাগজে-কলমে গাড়িগুলো গন্তব্যে পৌঁছেছে দেখানো হলেও বাস্তবে তেলগুলো অন্যত্র পাচার করে দেওয়া হয়েছে। বিমানের এই দামি জ্বালানি সাধারণত অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে চুরি করা হয়।

এই চুরির নেপথ্যে কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বাধীন একটি পুরনো সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সাইদুল হকের বিরুদ্ধে আগেও তেল চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং গত বছর তাকে সতর্ক করে চিঠিও দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এই চুরির বিষয়ে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তারা নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। বর্তমানে পদ্মা অয়েলের নিজস্ব টিম বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে।