মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত যুবক মো. জোবায়েরের (১৮) মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা যাবত থানা চত্বর ঘেরাও করে রাখা হয়। 

জানা গেছে, মামলা করতে গেলে পুলিশের ঘুষ দাবি ও দায়িত্বে গড়িমসির অভিযোগ তুলে থানা চত্বর ঘেরাও করে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা সরে যান।

এর আগে, গুরুতর আহত অবস্থায় চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান জোবায়ের। তিনি পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার রিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে এবং বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী জোবায়েরের পথরোধ করে। ছিনতাইকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নিহত জোবায়েরের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন গত বৃহস্পতিবার সকালে তারা বন্দর থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পুলিশের এই অপেশাদার আচরণ ও ঘটনার চার দিন পার হলেও মূল অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার জেরে এলাকাবাসী মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে।

এ বিষয়ে বন্দর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এলাকাবাসী থানায় এলে তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং তারা আস্থা রেখে ফিরে গেছেন। তিনি আরও জানান, ঘুষ দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদকে ইতোমধ্যে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ওসি বলেন, মামলা করতে এসে ফিরে যাওয়ার কোনো তথ্য তার জানা নেই। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলা না থাকায় তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দায়ের করলে এই ঘটনায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত