ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঐতিহাসিক গাদিরে খুম উপলক্ষে অভিষেক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুইদিন ব্যাপি আমিন পাড়ায় ইমামীয়া চিশতীয়া নেজামিয়া সংঘ দরবারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আনোয়ার আহমেদ শিবলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ছিলো কেক কাটা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা গাদিরে খুমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, 'মুসলিমদের ইতিহাসে এ ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।' মানবতা, ন্যায়বিচার, ঐক্য এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বিদায় হজের ভাষণে হযরত আলী (রাঃ)-কে তার প্রতিনিধি হিসেবে রেখে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন তার আনুগত্য সকলেই মেনে নিয়েছিলো। গাদিরে খুমের সত্যতা সমাজের মানুষের কাছ থেকে আড়াল করায় মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সমাজসেবী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা তিরমিজি শরীফে উল্লেখিত ‘মান্ কুনতু মাওলাহু ফাহাজা আলীউন মাওলাহু’-এই হাদিসের উপর জোর দিয়ে বলেন, গাদিরে খুমের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে নৈতিকতা ও নেতৃত্বের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী কর্তৃক কোরানের তফসির কোরান দর্শনের উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের সভাপতি বলেন, আমরা যদি এই গ্রন্থ পড়ি তাহলে খুব সহজেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শ এবং নীতিনির্ধারণগুলো পেয়ে যাব।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।