কাপাসিয়ায় বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড়, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত ময়লার ভাগাড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষের জানালার পাশেই জমে থাকা বর্জ্যের দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অন্তত ১৩টি শ্রেণিকক্ষের জানালার পাশে জমে উঠেছে ময়লার স্তূপ। স্থানীয় বাজারের পচা শাকসবজি, হোটেলের বাসি খাবার, মুরগির নাড়িভুঁড়ি এবং গৃহস্থালির নানা ধরনের আবর্জনা সেখানে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মাঠ। ময়লার দুর্গন্ধে শুধু পাঠদানই নয়, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আজমল ইসলাম বলেন, “রাতের অন্ধকারে এসব ময়লা ফেলা হচ্ছে। কেন বা কারা ফেলছে, তা জানা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।”

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বমি বমি ভাব হয় এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের পাশে এভাবে ময়লা ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত এই ভাগাড় সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”

স্থানীয় পথচারী মামুন মিয়া বলেন, “এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতেও কষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন ময়লার ভাগাড় কীভাবে গড়ে উঠল, তা বুঝতে পারছি না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ একদিন স্কুলে এসে দেখি বিদ্যালয়ের পাশে ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে। রাতের বেলায় কে বা কারা ময়লা ফেলছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। দুর্গন্ধের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আরিফ সরকার বলেন, “বিষয়টি আমাকে এখনো জানানো হয়নি। খোঁজ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ময়লা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৮০ সালে নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শতাধিক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।