খানাখন্দে ভরা শ্রীপুর বরমা–সিংহশ্রী সড়ক

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমা থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও যানবাহন চালকরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই অটোরিকশা দুলে বা উল্টে গিয়ে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন কাপাসিয়া, শ্রীপুর, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে মাওনা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এছাড়া টোক, সিংহশ্রী, রায়েদ ও বারিষাব ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য এটি অন্যতম প্রধান যোগাযোগ সড়ক।
 
স্থানীয়রা জানান, সিংহশ্রী সেতু টোলমুক্ত হওয়ায় সিলেট, কিশোরগঞ্জের ভৈরবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভারী ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ককে বাইপাস হিসেবে ব্যবহার করছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
অটোরিকশাচালক আব্দুল হালিম বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। যাত্রীরা ঝাঁকুনিতে আহত হন, আবার গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।’
 
সিএনজি চালক মো. আবুল কালাম বলেন, ‘এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিতে হয়। বড় বড় গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীরা ঝাঁকুনিতে আহত হন। রাস্তা ভালো হলে দুর্ঘটনা যেমন কমবে, তেমনি আমাদের পরিচালন ব্যয়ও কমবে।’
 
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এটি কাপাসিয়া, শ্রীপুর, পাকুন্দিয়া ও মনোহরদীর মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে মাওনায় যাতায়াত করেন। অথচ সড়কের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।’
কলেজছাত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বৃষ্টির দিনে চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। অনেক সময় সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে পারি না।’
 
ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খারাপ রাস্তার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। পণ্য আনা-নেওয়ায় সময় বেশি লাগে, এতে ব্যবসায়ও ক্ষতি হচ্ছে।’
 
ব্যবসায়ী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘সিংহশ্রী সেতু টোলমুক্ত হওয়ায় দূরপাল্লার ভারী যানবাহন এই রাস্তা ব্যবহার করছে। এতে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।‘
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহম্মেদ বলেন, ‘বরমা থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য প্রকল্পে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কাজ শুরু করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, বরমা থেকে সিংহশ্রী সেতু পর্যন্ত সড়কটির সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করে চলাচলের উপযোগী করা এবং ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতে, এতে শ্রীপুর, কাপাসিয়া, পাকুন্দিয়া ও মনোহরদী উপজেলার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
MCH/AHA
আরও পড়ুন