কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রতি বছরই টাকাপয়সার পাশাপাশি জমা পড়ে অসংখ্য মানুষের নানান আশা-আকাঙ্ক্ষা আর প্রার্থনা লেখা চিঠি। কেউ চান সুস্থতা, কেউ জীবনের সফলতা, আবার কেউ প্রিয়জনের মঙ্গল কামনা করেন।
তবে এবার সেই চিঠির ভিড়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছে এক ব্যতিক্রমী আবেদন—ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখতে চাওয়ার আকুল প্রার্থনা।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। দানবাক্সগুলো থেকে ৪৩ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়, যা পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় এনে গণনার কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা।
টাকার পাশাপাশি উদ্ধার হয় অসংখ্য চিঠি। এর মধ্যে এক ফুটবলপ্রেমীর হাতে লেখা চিঠিতে ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের স্বপ্ন ও প্রার্থনার কথা উঠে এসেছে, যা উপস্থিত সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
চিঠিটি আবারও মনে করিয়ে দিল—বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন এখনও অমলিন।
চিঠিটিতে লেখা ছিলো-----
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
হে আল্লাহ আপনি সর্বশক্তিমান। আপনার কাছে আমার একটি প্রিয় স্বপ্নের কথা জানাচ্ছি। আমি চাই ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করুক। লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বকাপের মাঠে উড়ুক এবং কোটি বাংলাদেশির স্বপ্ন পূরণ হোক। হে আল্লাহ, আমাদের দেশে ফুটবলকে উন্নত করুন, খেলোয়াড়দের সফলতা দান করুন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরার তাওফিক দিন। আমিন......
(একজন স্বপ্নবাজ বাংলাদেশি ফুটবল প্রেমী)।’
উল্লেখ্য, সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।