খামারের বর্জ্যে ফসল নষ্ট, কাপাসিয়ায় কৃষকদের মানববন্ধন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় একটি পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের কারণে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় কামারগাঁও এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা অভিযোগ করেন, এলাকার পোল্ট্রি খামারি ইকবাল হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে মুরগির খামার পরিচালনা করছেন। তার খামারে প্রায় ১০ হাজার ডিম উৎপাদনকারী মুরগি রয়েছে। খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য পার্শ্ববর্তী ছাবর আলীর বিলে ফেলে দেওয়ার কারণে আশপাশের কৃষিজমির ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কৃষক মীর বাদল, যার ২০ বিঘা জমি রয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের এলাকার জমিগুলো এক সময় খুব উর্বর ছিল। ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ভালো ফলন হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে পোল্ট্রির বর্জ্যের কারণে জমির উর্বরতা কমে গেছে। এখন আগের মতো ফলন পাই না।"

কৃষক রিটন মিয়া, যার ৩ বিঘা জমি রয়েছে, বলেন, "আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বলা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।"

হান্নান মীর, যার ৮ বিঘা জমি রয়েছে, অভিযোগ করে বলেন, "বিলের পানি ও জমি দূষিত হয়ে গেছে। এতে ধান চাষসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।"

১৫ শতাংশ জমির মালিক কৃষক রায়হান বলেন, "আমরা কৃষিকাজ করেই সংসার চালাই। ফসল নষ্ট হওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপদে পড়েছি।"

নুরুল ইসলাম (২০ শতাংশ জমি) ও আনিস (১৫ শতাংশ জমি) বলেন, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের কারণে তারা প্রতিবছর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল মীর, যার ৩ বিঘা জমি রয়েছে, বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।"

কৃষক শরিফ মীর বলেন, "আমি দেড় বিঘা জমিতে কাঁঠাল, হলুদ, মরিচ ও ধানের চাষ করতাম। কিন্তু পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের কারণে এখন আর আগের মতো ফলন পাচ্ছি না। আমাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।"

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন ঘাগটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাশেম মীর। তিনি বলেন, "কৃষকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা অবিলম্বে এ সমস্যার সমাধান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে পোল্ট্রি খামারের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, "আমার খামারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত নিয়ম মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।"

এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা।