সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
মঙ্গবার (৭ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ।
মামলার এজাহারে যা উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির প‚র্ব ঘোষিত জুলাই পদযাত্রার একটি সমাবেশ সাভারের তারাপুর ঈদগাও মাঠে আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশের মঞ্চে আগমন করেন।
কেন্দ্রীয় নেতাদের সমাবেশের মঞ্চে উঠার ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে সমাবেশস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে যায়। জেনারেটরের মাধ্যমে কয়েকটি বাতিতে আলোর ব্যবস্থা করা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত এবং সমাবেশস্থল তখনও অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। সমাবেশের আয়োজকরা বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এমতাবস্থায়ও কর্মসূচি চলমান ছিল। নেতাদের বক্তব্য চলাকালীন মঞ্চ থেকে ১০-১৫ ফুট সামনে রাত ৯টা ৪২ মিনিটের দিকে শ্রোতাদের সমাবেশস্থলে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয় এবং চারিদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।
সমাবেশের উক্ত স্থানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ এবং আহত পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক ও নেতারা ছিলেন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতারা দিগ্বিদিক ছিটকে পড়েন। সমাবেশস্থলে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিস্ফোরণের স্থলে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শাহিন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদৎ হোসেন (৪০), ডিবিসির নিউজের ক্যামেরাম্যান মজনু (৪৫), এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার সাইফুল ইসলামসহ (২৫) আরও অনেকেই গুরুতরভাবে আহত হয়। অজ্ঞাতনামা বিস্ফোরণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে মামলা করার উদ্দেশ্যে সাভার মডেল থানার দিকে অগ্রসর হয়।
অজ্ঞাতনামা আসামিরা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এনসিপির নেতাদের এবং সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটায়। এই বিস্ফোরণের পেছনে কোনো নিষিদ্ধগোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকার আশঙ্কা করছি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এনসিপির সমাবেশ নস্যাৎ করাসহ প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সমাবেশ চলাকালীন বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ দিকে ঘটনা তদন্তে ঢাকা জেলা পুলিশ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। অন্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান এবং সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ।
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।