ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার

চলন্ত ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় ঝাঁপ দেওয়ার পর কচুরিপানা আঁকড়ে ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে গেছেন মোসা. লাইজু (৩৯) নামে এক নারী। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর এলাকা থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর চর এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসতে থাকা অবস্থায় স্থানীয়রা লাইজুকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌপুলিশ। রোববার তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ‘কুমিল্লা’ ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় লাফ দেন লাইজু। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদ ঝাউচরের বাসিন্দা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী। ওই সময় তিনি ফেরিতে একাই ছিলেন।

‘কুমিল্লা’ ফেরির মাস্টার আব্দুস সাত্তার জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ফেরিটি ছেড়ে যায়। মাঝনদীতে একটি লাল বয়া পার হওয়ার পর ফেরির এক কর্মী তাকে জানান, মোবাইল ফোনে কথা বলার পর এক নারী যাত্রী নদীতে লাফ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরিটি থামিয়ে সার্চলাইট দিয়ে নদীতে ওই নারীর সন্ধান চালানো হয়। তবে তখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, লাইজু কচুরিপানা আঁকড়ে ধরে স্রোতের সঙ্গে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবিরপুর চর এলাকায় তাকে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পদ্মার পানিতে ভেসে থাকার পর লাইজু কীভাবে জীবিত উদ্ধার হলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।