ঢাকা-ইলিশা ফেরি চালু

ভোলাকে মূল ভূখণ্ডে যুক্ত করতে সেতু নির্মান হবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত নৌপথে মানুষের যাতায়াত সহজ করতে কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর-ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। মন্ত্রী জানান, পরীক্ষামূলক চলাচলের কয়েক দিনের মধ্যেই এ রুটে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি প্রতিদিন চলাচল করছে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সময় লাগছে প্রায় আট ঘণ্টা। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বিবেচনায় ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাড়া যৌক্তিক করা, যাত্রীসেবা বাড়ানো এবং ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী।

ঢাকার চক্রাকার নৌপথ ও ওয়াটার বাস সার্ভিসকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। নির্দিষ্ট সময়সূচি, যাত্রীবান্ধব পরিবেশ এবং নৌপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের সমন্বয় করা গেলে এসব সেবা আরও জনপ্রিয় হবে বলে মনে করেন তিনি। এতে মানুষের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি নৌপরিবহন খাতের লোকসানও কমানো সম্ভব হবে।

বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং বিভিন্ন সেতুর আশপাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। নিয়মবহির্ভূত বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারীসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি চালুর ফলে ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই নৌযোগাযোগ ভোলার ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে।

এম সি এইচ
আরও পড়ুন