স্বামীর করা যৌতুক মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে

রাজবাড়ীতে যৌতুক নিরোধ আইনে স্বামীর করা মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তানিয়া। শুনানি শেষে বিচারক আরিফ হোসেন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা। মামলাটি বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে সি.আর. মামলা নং-৪০/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। মামলাটি ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় করা হয়েছে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে তানিয়া খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তার স্বামীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে স্বামীর সংসার করবেন না বলেও জানান। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরে পারিবারিকভাবে ও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তানিয়া যৌতুকের টাকা ছাড়া স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন।

বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পারিবারিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসার উদ্যোগ সফল না হওয়ায় মঙ্গলবার আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে তানিয়া খাতুন বা তার পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।