ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ডে স্ট্রিট লাইট বিকল থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা গুলোতে দূর্ঘটনা, অপরাধ ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা বাড়ছে। মহাসড়কে জননিরাপত্তায় স্থাপিত স্ট্রিট লাইটগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে রাতে যাতায়াতকারী যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এগুলো সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।
জানা যায়, মানিকগঞ্জ জেলার প্রবেশদ্বার থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত সব বাসস্ট্যান্ডে সড়ক ও জনপথ বিভাগ স্ট্রিট লাইট স্থাপন করে। এতে মহাসড়কে রাতে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসেবীদের উৎপাত উল্লেখ যোগ্য হারে কমে এসেছিল। ফলে সাধারণ যাত্রী ও নাইট শিফটে কর্মরত পোশাক শ্রমিকরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারতেন। তবে গত দুই তিন মাসের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পয়েন্টে একের পর এক লাইট অকেজো হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এসব লাইট নষ্ট হয়েছে, নাকি সামান্য কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে জ্বলছে না।
সড়ক বিভাগের দাবি, অধিকাংশ স্থানের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে, যার কারণে হয়তো লাইট গুলো জ্বলছে না এবং এটি দেখার দায়িত্ব পুলিশের। এদিকে সড়ক বাতি গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকা গুলোতে অন্ধকারের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সুযোগ নিচ্ছে ছিনতাইকারী ও অপরাধী চক্র।
গোলড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রায় এক মাস ধরে স্ট্রিট লাইট বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের চাকরিজীবী ও মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল্লাহ বলেন, প্রতিদিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিশেষ করে গোলড়া সেতু পার হওয়ার সময় ডিভাইডার পেরিয়ে মূল লেনে উঠতে গিয়ে বড় ও ছোট গাড়ির মাঝখানে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়।
যাত্রী হোসেন সিদ্দিক বলেন, বাসস্ট্যান্ড মানেই সবসময় ব্যস্ত ও জনমুখর এলাকা। কিন্তু সন্ধ্যার পর অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সুযোগ বুঝে উঠতি বয়সী মাদকাসক্তরা যাত্রীদের মোবাইল, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। আলো থাকলে হয়তো এমন ঘটনার শিকার হতে হতো না। দ্রুত স্ট্রিট লাইট গুলো মেরামত করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এম এম হানিফ বলেন, মহাসড়কের নিরাপত্তার জন্যই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে কিছু স্থানে তার চুরির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব চুরিরোধ বা নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের দেখার কথা। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।