সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ

নিজ বাসায় দুই মাসে প্রায় ৯ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে সেই কলেজ শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের আদালতে তাকে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের গাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী জানান, সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পাওয়ার পর সিফাতের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত ৯টার দিকে তাকে গাছা থানায় নেওয়া হয় এবং পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সিফাত আব্দুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য ও লেখালেখি করছিলেন। বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে করা ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে সিফাত আব্দুল্লাহর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বাস্তবে কোনো জটিলতা বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে ওসি গোলাম রাব্বানী বলেন, বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা এখনো যাচাই করা হয়নি। তবে পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওসি আরও বলেন, পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সিফাত আব্দুল্লাহর যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অপপ্রচারে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, বক্তব্য, কথিত রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে তার বাস্তব কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তদন্তে সেসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।