কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার নিয়ে ফের অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অভিযোগের পর নষ্ট রুটিগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হলেও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের ৫২ নম্বর চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা খাবার হাতে পাওয়ার পর কয়েকজন রুটিতে কালো দাগ ও দুর্গন্ধের বিষয়টি শিক্ষকদের জানান। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে নষ্ট রুটিগুলো সংগ্রহ করে ফেরত নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, মিড-ডে মিলের খাবার পাওয়ার কথা শুনে তারা আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু রুটিতে দুর্গন্ধ থাকায় সেটি খাওয়া সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবার অবশ্যই টাটকা ও স্বাস্থ্যকর হওয়া উচিত।
অভিভাবক শাহ পরানসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, শিশুদের জন্য সরকারি উদ্যোগে খাবার সরবরাহ করা হলেও খাবারের মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, রুটির প্যাকেটে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর উল্লেখ ছিল। অথচ তার আগের দিন, ১৩ সেপ্টেম্বর বিতরণের সময়ই কয়েকটি রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।
অভিভাবকেরা বলেন, খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ বা পরিবহনের কোনো পর্যায়ে গাফিলতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষার্থীর মা মোছা. স্বপ্না আক্তারের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে এর আগেও শিশুদের কাঁচা কলা, দুর্গন্ধযুক্ত রুটি, কম সিদ্ধ ও নষ্ট ডিম দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে শিক্ষকদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবার বিতরণের সময় তিনি বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা সদরে ছিলেন। পরে দপ্তরির কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। খাবার বিতরণের পর কয়েকটি রুটি নষ্ট ও দুর্গন্ধযুক্ত পাওয়া গেলে সেগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দ্রুত ফেরত নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ৫২ নম্বর চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নষ্ট রুটি বিতরণের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।