কিশোরগঞ্জে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত, নিবন্ধন ১ হাজার ৮৫ তরুণ-তরুণীর

কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে চাকরি ও যুব উদ্যোক্তা মেলা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সিভি হাতে মেলায় জড়ো হন বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী। চাকরির সুযোগ, নিয়োগের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া জানতে সকাল থেকেই বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের স্টলে ভিড় করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিওয়াইডি ক্যাম্পাসে ‘চাকরি ও যুব উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ইউসেফ বাংলাদেশ (USEF Bangladesh) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল সেভ দ্য চিলড্রেন।

মেলায় অংশ নেওয়া ২১টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে চাকরির জন্য মোট ১ হাজার ৮৫ জন তরুণ-তরুণী নিবন্ধন করেন। পাশাপাশি নিয়োগের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, পদসংখ্যা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য নেন চাকরিপ্রার্থীরা।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইউসেফ বাংলাদেশের মাধ্যমে ৫০৭ জন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধন খাতায় ৫৭৮ জন চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেন।

চাকরির সুযোগের পাশাপাশি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও মেলায় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্টলে তরুণ উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়।

মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা সুমন জানান, করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়ার পর ছোট বোনের দেওয়া তিনটি পাঞ্জাবি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ক্রেতাদের সাড়া পাওয়ায় ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়ান। বর্তমানে অনলাইন ও সরাসরি—দুই মাধ্যমেই পাঞ্জাবি বিক্রি করে নিজের ও পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন।

উদ্যোক্তা সুমি বলেন, ইউসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী-পুরুষদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তাদের সংগঠনের মাধ্যমে এবারের মেলায় ২০ জন বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সকাল ১০টায় ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন। পরে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং চাকরিপ্রার্থী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইউসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইনোভেশন বিভাগের উপপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জয় প্রকাশ বড়ুয়া এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান।

মেলায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম শামীম।

রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, প্রথমবারের আয়োজনেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। মোট ১ হাজার ৮৫ জন চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেছেন। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই ছিল মেলার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইনও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম আয়োজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাকরি মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।