মেয়ের বিয়ের আনন্দের মাঝেই শোকের ছায়া, সড়কে প্রাণ গেলো বাবার

শুক্রবার মেয়ের বিয়ে। বাড়িতে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি, আনন্দ আর ব্যস্ততা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরপক্ষের লোকজনও আসার কথা ছিল। তাই মেয়ের বিয়ের বাজার করতে ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বাবা লোকমান হোসেন (৫০)। কিন্তু সেই বাজার নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাছবাহী একটি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ট্রাকে চালক ও সহকারী সাথে থাকা মাছ ব্যবসায়ী দিরু নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়।

বাবার মৃত্যুতে মেয়ের বিয়ের আনন্দের ঘর মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের ঘরে।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর জেসন গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লোকমান হোসেন ভবানীপুর এলাকার সোনা মিয়া হাজীর ছেলে। নিহত অপরজন মাছ ব্যবসায়ী দিরু নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে লোকমান হোসেন মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবাহী গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। পরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।

এতে মাছবাহী গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির চালকের পাশের সিটে থাকা মাছ ব্যবসায়ী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

অন্যদিকে, গুরুতর আহত লোকমান হোসেন ও দিরুকে স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক লোকমানকে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছু সময় পর দিরুও মারা যায়।

রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ির চালকের পাশের সিটে থাকা এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। 

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর গাড়িচালক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি জানান, ট্রাকে চালক ও হেলপারের সাথে সহযাত্রী হিসেবে মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দুর্ঘটনায় আহত হন। আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোকমান হোসেনের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়ের বিয়েকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে বাড়িতে চলছিল নানা প্রস্তুতি। সেই আনন্দের মধ্যেই বাবাকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাবা মেয়ের বিয়ের বাজার নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরতে হলো নিথর দেহ হয়ে।